Your Cart is Currently Empty.

You must have at least one product in your cart before you can proceed to checkout

বিচ্ছেদ পর্ব ৫

“তমা এখন কেমন লাগছে?”

” কেন কি হয়েছিল?”

“আমি ঘরে ঢুকে দেখি যে তুমি মাথা ঘুরে পড়ে আছ।খুবই ভয় পেয়ে গেছিলাম। “

“ওহ!সারাদিন ঘুরাঘুরি করে আসলে একটু টায়ার্ড।তাই মনে হয়..”
এরপর থেকে অর্ণব আমাকে একটুও একা ছাড়ছিলনা। এমনকি বাথরুমে গেলেও বাইরে দাঁড়িয়ে থাকত।আমার এত হাসি পাচ্ছিল।
পরের দিন অফিস যেতে চাচ্ছিলনা। আমি একরকম জোর করে পাঠালাম। কিন্তু দুপুরের মধ্যে সে আবার হাজির।
অবশ্য ভালোই হল।আমরা দুজন মিলে খুব সুন্দর করে আমাদের ঘর গুছালাম,শাড়ি পড়ে হাত ধরে ঘুরলাম।
পরের দিনও দেখি অর্ণব অফিস থেকে তাড়াতাড়ি এসে হাজির। জিজ্ঞেস করায় বলে তোমাকে একা রেখে শান্তি পাইনা,মনে হয় আবার যদি মাথা ঘুরে পড়ে থাক!

মাকে ফোন দিয়ে মাথা ঘোরার গল্প করায় মা বলল প্রেগন্যান্সি টেস্ট করে দেখতে। আমি হাজার মানা করার পরেও মা টেস্ট করিয়ে আনে।প্রথমে প্রেগন্যান্সি স্ট্রিপ দিয়ে এরপর ব্লাড টেস্ট করিয়ে। দুইটাই পজিটিভ আসে।প্রথমে সবকিছু অবিশ্বাস্য লাগছিল।আমি কিছু বুঝতে না পেরে মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলি।
টেস্ট করে বাসায় ফিরে দেখি অর্ণব বাসায়।
” তুমি বাসায়?আজকে এত তাড়াতাড়ি ?শরীর ভাল?”
” তমা আমার চাকরিটা আর নেই!”কোন ভণিতা না করেই বলে ফেলল।
“এসব কি বলছ তুমি?”
‘ হ্যাঁ তমা,অফিস থেকে অনেককেই ছাটাই করেছে আর আমিও সেই লিস্টে যুক্ত। “
অনেকটা ক্ষোভের সাথেই বলল।
আমি কি বলব বুঝে পাচ্ছিলামনা।থ হয়ে বসে থাকলাম কিছুক্ষণ।তারপর ও ফ্রেশ হয়ে আসার পর জিজ্ঞেস করলাম “কবে থেকে এমন হয়েছে?তুমি এতদিন অফিসে যাওয়ার অভিনয় করছিলে?”
কোন উত্তর না পেয়ে কিছক্ষন চুপ করে থেকে আবার ওকে সান্ত্বনা দিলাম যে
” সব ঠিক হয়ে যাবে,তুমি আবার চাকরির জন্য ট্রাই কর পেয়ে যাবে।”
“আমি আর চাকরি করবনা”
তাহলে?
“আমি বাইরে যাওয়ার জন্য এপ্লাই করব।এসব চাকরি বাকরি আমার আর ভাল লাগেনা।আমার বন্ধুকে বলেছি ও আমাকে গাইড করবে।”
আমি চুপ করে উঠে পড়লাম। অর্ণবকে কি বলব আমাদের নতুন অতিথির কথা নাকি এই সময়ে বলা উচিত হবেনা। বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে একটা ছোট্ট বাচ্চাছেলেকে দেখলাম বোতল কুড়িয়ে বেড়াচ্ছে আর হঠাৎ ই একটা বোতলে কমলা রঙের তরল জাতীয় কি যেন একটা পেয়ে খুশিতে লাফাচ্ছে। ওরা কত অল্পতেই খুশি হয় আর আমরা!

চাকরি যাওয়ার পর থেকে অর্ণব এই কয়েকমাস ধরে বাসায়ই থাকে। যতক্ষণই থাকে ল্যাপটপে মুখ গুজে বসে থাকে। কিছু প্রশ্ন করলেই হ্যাঁ হু দিয়ে এড়িয়ে যায় নাহয় বিরক্ত হয়।

প্রায় সাড়ে তিনমাস চলছে আমার।যদিও আমাকে দেখে কিছুই বুঝা যায়না। কিন্তু ও আমার দিকে একবারও তাকিয়েও দেখেনা তাই যাওবা পরিবর্তন আসছে তাও ওর চোখে পড়েনা। ডাক্তার আল্ট্রাসাউন্ড করতে দিয়েছে।খুবই ভয় লাগছে একইসাথে খুব আনন্দ হচ্ছে। আজকে বাবুর সাথে দেখা হবে। মা বলেছে নিতে আসবে।অর্ণব আজকে সকাল সকাল বের হয়ে চলে গেছে।ফ্রিজের উপর নোট দেখলাম আসতে দেরি হবে।
মায়ের সাথে আল্ট্রাসাউন্ড করে বাসায় আসলাম। আমার বাবুর হার্টবিট শুনলাম প্রথমবারের মতো। মনে হচ্ছিল জীবনটা এত সুন্দর! অর্ণবকে একটু মিস করছিলাম। দুজন মিলে কত এনজয় করতাম এই সুন্দর মুহূর্তগুলোকে।
বাসায় ফিরে লুকিয়ে লুকিয়ে শুধু বাবুর আল্ট্রাসাউন্ডের ছবিগুলো বারবার দেখছিলাম। এতটুকু আমার বাবু!

ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে নিজের নতুন রূপ দেখছিলাম।আমার চেহারায় তো কোন মা মা ভাবই আসেনি এখনো।আমাকে মানাবেতো মা হিসেবে?
হঠাৎ অর্ণব এসে বলল আজকে রাতে মনে হয় তুমি “তোমার আয়রন ট্যাবলেট,ফলিক এসিড ট্যাবলেট খেতে একদম ভুলে গেছ।”
” হুম.. তুমি কিভাবে জান? “
“প্রতিদিনই ত দেখি খেতে। আজকে দেখলাম খেতে ভুলে গেছ!তাই মনে করিয়ে দিলাম।আমার বাচ্চাটা আজকে পুষ্টি পাবেনা! তা কি হয়! “
আমি ঘুরে ওর দিকে তাকিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরি।
” তুমি জানতে?”
” জি ম্যাডাম! আপনি যেই ডাক্তার দেখাচ্ছেন সেখানে যে এসিস্ট্যান্ট ডাক্তার আছে সে আমার বান্ধবী।আমি আপনার সব খবরই পাই। “
“তুমি সব জেনেও চেপে আছ এতদিন ধরে? “
“কেন তুমি চেপে আছ না?আমি অপেক্ষা করছিলাম তোমার মুখে শোনার জন্য।কিন্তু সেই সৌভাগ্য হল আর কই? “
” অর্ণব আমি তোমাকে টেনশন দিতে চাইনি। এমনিতেই অনেক প্রেশার এ আছো তুমি।”
“কিসের প্রেশার? আমার নিজের বাচ্চা আমার জন্য ঝামেলা? কখনো না।তুমি দেখো ও আমাদের জন্য আল্লাহর রহমত হয়ে আসবে।আর বাচ্চারা নিজেদের রিযিক সাথে নিয়ে আসে।”
“কিন্তু তোমার চাকরি? “
“চাকরির থেকেও ভাল কিছু করব, তুমি চিন্তা কোরনা।এখন তো তোমার হাসিখুশি থাকার সময়। এখন ঘুমিয়ে যাও।”
ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার শাশুড়ী বেড়াতে এসেছেন।খুবই আনন্দ লাগলো আমার। আমাকে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষণ কাঁদলেন।
” আমি আইসা পড়ছি মা, তোমার সব দায়িত্ব এখন আমার। বাবু বলল, তুমি নাকি একদম খাইতে চাওনা।”
” খুবই ভাল করেছেন মা।একা একা ভাল লাগেনা আমার ও।”
মা আমাদের জন্য গ্রাম থেকে অনেক কিছু নিয়ে এসেছেন।সেগুলো বের করে করে দেখাচ্ছিলেন। নারিকেল, শাকসবজি,ফলমূল,নিজের হাতে বানানো নকশি পিঠা,নিজেদের পালা গরুর দুধ আরও অনেক কিছু।
আমরা তিনজন একসাথে বসে খেলাম। এত মজার মজার পিঠা!আমি নিজের জন্য কফি বানিয়ে খেতে যাব তখন মা বললেন যে এই সময় নাকি কফি না খাওয়াই ভাল। অগত্যা কফি রেখে চা বানালাম। এমনকি চিপস,নুডুলসের মসলা,সফট ড্রিংকস, সয়াসস,টেস্টিং সল্ট জাতীয় খাবার ও নাকি খাওয়া যাবেনা। এইবার মনে হচ্ছে আমার স্বাধীন জীবনযাপন আর হবেনা।

Comments (1)

  1. AffiliateLabz

    Great content! Super high-quality! Keep it up! 🙂

Leave a Reply

Save my name, and email, in this browser for the next time I comment.